কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

মোহাম্মদ আবদুল কাইউম এর মোদের গরব মোদের আশা

মোদের গরব মোদের আশা
এক নজরে

মোট পাতা: 68

বিষয়: শিশুতোষ গল্প

  • ৳ 25.00
  • + কার্ট-এ যোগ করুন
** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

‘আ মরি বাংলা ভাষা’

 

আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। এই বাংলা ভাষার প্রশংসা-গীতি গেয়ে কবি বলেছেন—

‘মোদের গরব মোদের আশা, অা মরি বাংলা ভাষা’!

যুগ যুগ ধরে কত কবি বাংলা ভাষার গুণ-কীর্তন করে কত গান, কত কবিতা রচনা করেছেন। মাতৃভাষাকে সকলেই ভালোবাসে। আমাদের দেশের এক মনীষী ডক্টর মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ একদা বলেছিলেন—

 ‘মাতা, মাতৃভূমি ও মাতৃভাষা—এই তিনটি প্রত্যেক মানুষের পরম শ্রদ্ধার বস্তু’।

আমরা বাংলা ভাষাকে শুধু ভালোই বাসি না, এই ভাষায় আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি, বিদ্যার অনুশীলন করি এবং এই ভাষার সাহায্যে জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করি। পৃথিবীর ভাষাগুলোর মধ্যে এটি একটি বহুল প্রচলিত ভাষা। বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর আরো অনেক দেশের মানুষ বাংলা ভাষায় কথা বলে এবং বাংলা ভাষার চর্চা করে। কিন্তু এই বাংলা ভাষার ইতিহাস আমরা ক’ জনাই বা জানি। এই ভাষার পরিচয় আমাদের ক’জনের জানা? আজ তোমাদের এই বাংলা ভাষার ইতিহাস, তার পরিচয় ও প্রকৃতি সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবো।

পণ্ডিতগণ ভাষার সঙ্গে নদী-প্রবাহের তুলনা করে থাকেন। নদী এক উৎসমুখ থেকে জন্ম নিয়ে, বিভিন্ন স্রোতোধারায় প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন নামে চিহ্নিত হয়ে, মহাসমুদ্রের দিকে ধাবিত হয়। ভাষাও তেমনি জন্মলগ্নের পর যুগের পর যুগ বিভিন্ন রূপান্তর ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয় এবং বিকাশ লাভ করে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলাও পরিবর্তনের বিভিন্ন স্তর পার হয়ে বর্তমান রূপ নিয়েছে।

প্রথমে বর্ণমালার কথাই ধরা যাক। আমরা জানি, বাংলা বর্ণমালায় ৫০টি অক্ষরের মধ্যে, ১৬টি স্বরবর্ণ এবং ৩৪টি ব্যঞ্জনবর্ণ। বিভিন্ন বর্ণমালা গ্রন্থে অথবা ব্যাকরণ বইয়ে ৫০টি বর্ণের মধ্যে স্বরবর্ণ ও ব্যঞ্জনবর্ণের সংখ্যার হেরফের হয়ে থাকে। অনুস্বার , বিসর্গ ও চন্দ্রবিন্দু বর্ণমালায় কখনও স্বরবর্ণ অংশে, কখনও বা ব্যঞ্জনবর্ণ অংশে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আমাদের বর্ণমালার একটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলা দরকার। ভাষা-পণ্ডিতগণ স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণের গঠন, ব্যবহার এবং প্রকৃতির মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নির্দেশ ক’রে, এই দু-শ্রেণীর বর্ণসমূহকে আলাদা করে থাকেন। সে কারণেই আমাদের বর্ণমালায় স্বরবর্ণ এবং ব্যঞ্জনবর্ণ দুটি ভাগে বিভক্ত। ভারতের কয়েকটি ভাষায়ও এরূপ পার্থক্য দেখা যায়। কিন্তু পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায়, যেমন ইংরেজি, আরবি বা ফরাসি ভাষায় ব্যঞ্জন বর্ণমালার মধ্যেই স্বরবর্ণগুলো অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। স্বরবর্ণের জন্যে আলাদা শ্রেণী থাকে না।

যুগের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ভাষায় বিভিন্ন বর্ণের ব্যবহার বিচারে বর্ণমালার অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা লক্ষ করি, এক-কালে ‘দীর্ঘ ঋ’ ‘লি’ (৯) এবং ‘দীর্ঘ লি’ বর্ণমালায় স্থান পেলেও এর ব্যবহার বাংলা ভাষায় কোন কালেই ছিল না। ১৮০১ সালে প্রকাশিত উইলিয়াম কেরির বাংলা ব্যাকরণে যে বর্ণমালা মুদ্রিত হয়েছিল, তাতে এই তিনটি বর্ণ ছিল।

অতীতকালে বাংলা ভাষার বর্ণমালায় দুটি ‘ব’ ছিল- বর্গীয় ‘ব’ এবং অন্তঃস্থ-‘ব’। বাংলায় অন্তঃস্থ –‘ব’ এর ব্যবহার নেই। তাই আধুনিক বর্ণমালায় প-ফ-এর পরে ‘ব’ বর্ণটি রয়েছে, ‘য-র-ল’-এর পরে অন্তঃস্থ –‘ব’টি নেই।

বাংলা ভাষায় আমরা কয়েকটি বর্ণ লিখে থাকি, কিন্তু সেগুলো বাংলা বর্ণমালার তালিকায় নেই। 

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Md.Mizanur Rahman

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!