কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

প্রিন্স আশরাফ এর মূর্তি রহস্য

এক নজরে

মোট পাতা: 179

বিষয়: রহস্য গল্প

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

চৈত্রের কাঠফাটা দুপুরে ছোটমামা ও আমি একটা গোপন কাজে মেতে আছি। ছোটমামার ঘরে। ঘরটা আগে ছিল মেজোমামার। উত্তরাধিকার সূত্রে ছোটমামা এখন ভোগ-দখল করছে। আরও কিছুদিন এখানে থাকতে হবে বলে ছোটমামার ভোগ-দখলে আপাতত আমিও ভাগ বসিয়েছি। আম্মু ছোট্ট বাবুটাকে নিয়ে আব্বুর সাথে আব্বুর কর্মস্থল নওগাঁতে গিয়েছে। আমারও যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখানকার স্কুলে আমার প্রথম সাময়িক পরীক্ষা চলছিল বলে যাওয়া হয়নি। ব্যবসার কাজ সেরে বড়মামা ইন্ডিয়া থেকে ফিরে আমাকে আব্বু-আম্মুর কাছে রেখে আসবেন। ততদিন আমাকে নানা বাড়িতেই থাকতে হবে।

এই ঠা ঠা দুপুরে নানা-নানী তাদের ঘরে নাক ডাকিয়ে ঘুমাচ্ছেন। শুধু আমাদের দুজনের চোখে ঘুম নেই। ঘুম থাকবে কি করে? আমরা যে একটা গোপন নিষিদ্ধ কাজ করতে চলেছি।

মেজোমামার ঘরের খাটের নিচে তালাবদ্ধ একটা ট্রাংক এতদিন আমাদের নজরে এলেও পুরানো ধাঁচের ঐ বিশাল তালাটা খোলার সাহস ছোটমামার হয়নি। আমি অবশ্য দু-একবার তালা ভাঙার প্রস্তাব দিলে ছোটমামা তা একবাক্যে উড়িয়ে দেয়। তালা ভাঙলে মেজোমামা বাড়িতে এসে তাকে আস্ত রাখবে না। মেজোমামার সকল গোপন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ অনেক নিষিদ্ধ লুকিয়ে পড়ার মতো বই নাকি ওর মধ্যে আছে। মেজোমামা যদি কোনোভাবে জানতে পারে ওটা খোলা হয়েছে তাহলে ছোটমামার খবর আছে। মেজোমামা সহজে রাগে না, তবে একবার রাগলে তখন খবর হয়ে যায়। মেজোমামা এমনিতে সাধাসিধে ধরনের মানুষ। কারোর সাথেও থাকে না, পাছেও থাকে না। রাতদিন বইয়ের মধ্যে ডুবে থাকে। মেডিকেলে অনেক পড়তে হয়। তারপরে মেজোমামা পড়াশুনা ছাড়া কিছুই বোঝে না। যখন ছুটিতে বাড়িতে আসে, তখনও তার হাতে মোটা মোটা বই থাকে। ঘুমালেও চোখে চশমা, বুকের উপর বই থাকবেই।

এতদিন মেজোমামার গোপন ট্রাংকে হাত দেয়ার কোনো সাহস ছোটমামা না করলেও আজ সাহস করেছে আমার কারণে। আমার ছোটভাইয়ের জন্ম উপলক্ষে (দুর্ভাগ্য, এবারও ভাই হয়েছে, বোন হয়নি) ঢাকা থেকে আব্বু এসে আমাকে দুটো উপহার দিয়েছেন। একটা হলো খেলনা পিস্তল। কিন্তু দেখতে এক্কেবারে সত্যিকারের পিস্তলের মতো। জিনিসটা স্টিলের। ভারী এবং ঠান্ডা। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, সত্যিকারের পিস্তলের মতো (যওি সত্যিকারের পিস্তল আমি কখনো দেখিনি) ওটাতে গুলি ভরা যায়। গুলির জন্য ছয়টা ছোট ছোট খোপ আছে। তাতে প্লাস্টিকের গুলি ভরে ঠাস ঠাস করে গুলি করা যায়। প্লাস্টিকের গুলিগুলো ফুট বিশেক দূরে যায়। কারোর গায়ে লাগলে অবশ্য খুব একটা ব্যথা লাগে না।

দ্বিতীয় যে জিনিসটা আব্বু দিয়েছে সেটা একটা ম্যাকগাইভার নাইফ। যারা না দেখেছে তারা বুঝবে না কি আশ্চর্যজনক জিনিস ওইটা! কি নেই তাতে? কান খোঁচানো কাঠি থেকে শুরু করে নেইল কাটার সব আছে। ছুরি, স্ক্রু ড্রাইভারের কথা তো বলাবাহুল্য। ম্যাকগাইভার নাইফে আছে ম্যাকগাইভার কি (চাবি) বা ম্যাজিক কি যাতে নাকি দুনিয়ার সব তালা খোলা যায়! এই জিনিসটা হাতে পাওয়ার পর ছোটমামা ও আমার মাথায় মেজোমামার গোপন ট্রাংক খোলার শয়তানি বুদ্ধিটা মাথায় আসে।

ছোট মামা ট্রাংকের পুরানো চায়না মরিচা পড়া বড়সড় তালাটা খুলতে যেয়ে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে যায়। ম্যাকগাইভার কিয়ের ম্যাজিক কাজ করে না কেন আমরা বুঝতে পারি না। এদিকে তালা খোলার চেষ্টায় ট্রাংকের সাথে তালার ঘষটানিতে এই নিশ্চুপ দুপুরে বেশ একটা ঝনঝনানি শব্দ হতে থাকে। যদিও আমরা ঘরের ভেতর থেকে ছিটকিনি তুলে দিয়েছি। তবে শব্দ তো বাইরে যেতেই পারে।

ছোটমামা ট্রাংকের কাছ থেকে ফিসফিস করে বলল, ‘আস্তে ছিটকিনিটা খুলে বাইরে থেকে তোদের তোয়ালেটা নিয়ে আয় তো। তোয়ালে দিয়ে তালাটা পেঁচিয়ে নিলে আর শব্দ হবে না। সাবধানে নিয়ে আসিস। শব্দ করিসনা।’

তোয়ালে পেঁচিয়ে সাবধানে শব্দ না করেও তেমন কোনো অগ্রগতি হয় না। মান্ধাতার আমলের তালাটা হয়তো পণ করেছে যে তার প্রকৃত মালিক এসে আসল চাবি না ঢুকালে খুলবে না। কোনো ম্যাকগাইভার-টারে তালার কোনো ভক্তি-শ্রদ্ধা নেই।

কেউ যখন কোনো কাজ করতে যেয়ে বারে বারে অকৃতকার্য হতে থাকে, তখন তার পাশে যে দাঁড়িয়ে কাজ দেখতে থাকে, তার কেন জানি মনে হতে থাকে সে হাত লাগালেই সাকসেসফুল হতে পারত। পাশে দাঁড়িয়ে দেখতে থাকা মানুষটি উসখুস করতে থাকে।

আমি উসখুস করতে আর ধৈর্য রাখতে না পেরে মামাকে বললাম, ‘মামা, আমার কাছে দাও তো। আমি একবার চেষ্টা করে দেখি খোলে কিনা।’

ছোটমামা ট্রাংকের কাছ থেকে উঠে বাম হাত দিয়ে কপালের ঘাম মুছে খাটে বসতে বসতে বলল, ‘একবার নয় হাজার চেষ্টা করে দেখ। আমি আর ওই মরার তালায় হাত দিচ্ছি না।’

আমি ম্যাকগাইভারের হরেক রকমের খাঁজ-কাটা লম্বা চাবি নিয়ে তালার ভিতরে ঢুকিয়ে বিভিন্ন ভাবে চাপাচাপি করতে থাকি।

হঠাৎ বাইরের রাস্তায় বিকট শব্দের সম্মিলিত স্লোগান ‘বল হরি—হরিবোল’ শুনে আমি এত জোরে চমকে কেঁপে উঠি যে আমার হাতও কেঁপে যায়। আর কিভাবে কিভাবে জানি হাতের কাঁপাকাঁপিতে তালাটা খুট করে খুলে যায়।

বাইরের ‘বল হরি-হরিবোল’ ধ্বনি নানাদের ঘরের পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির সবাইকে জাগিয়ে দিয়ে যায়।

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Bookworm

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!