কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

আবদুল্লাহ আল-মুতী এর বিচিত্র বিজ্ঞান

এক নজরে

মোট পাতা: 201

বিষয়: বিজ্ঞান

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

জীবজগৎ

 

উদ্ভিদ থেকে ওষুধ

 

দেহের নানা আধি-ব্যাধির উপসর্গের জন্য মানুষ ওষুধের ব্যবহার করে আসছে সভ্যতার একেবারে শুরু থেকে। এসব ওষুধ মানুষ খুঁজে পেয়েছে তার হাতের কাছেই—চারপাশের প্রকৃতিতে, উদ্ভিদের ফল পাতা বাকল শেকড় বা বীজে। এমনকি মাত্র গত শতকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এমনি গাছপালার সাহায্যে চিকিৎসাই ছিল মানুষের প্রধান চিকিৎসা পদ্ধতি। অর্থাৎ আধুনিক রসায়ননির্ভর চিকিৎসা রীতির আয়ু শ-দেড়েক বছরের বেশি নয়। আজ পৃথিবীতে ওষুধের সংখ্যা প্রায় চার লাখ। এর অধিকাংশ কৃত্রিম রাসায়নিক উপাদানে তৈরি হলেও প্রায় এক-চতুর্থাংশ ওষুধের মূল উপাদান হল উদ্ভিদ।

আমাদের দেশে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে লোকায়ত চিকিৎসাব্যবস্থা ‘আয়ুর্বেদ’ (অর্থাৎ জীবনতত্ত্ব) ও হেকিমী বা ‘তিব্বে ইউনানী’ (অর্থাৎ গ্রীক চিকিৎসা) বহুল প্রচলিত। দীর্ঘকালের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে এদেশের মানুষ নানা উদ্ভিদ লতাপাতার ভেষজ গুণের ওপর নির্ভর করতে শিখেছে। বাংলাদেশে আধুনিক পদ্ধতির চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় দশ হাজার। সনাতন পদ্ধতির পেশাজীবী চিকিৎসকের সংখ্যা এর অর্ধেকের মতো।

নানা গাছপালার গুণাগুণ মানুষ জেনেছে কখনো দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে, কখনো বা আকস্মিকভাবে। মানুষ দেখেছে কোন কোন উদ্ভিদ তার জন্য উপকারী—তাকে ব্যবহার করা যায় খাদ্য হিসেবে অথবা রোগের বা বেদনার উপশমের জন্য; আবার কোন উদ্ভিদের ফল বা আর কোন অংশের ব্যবহারে ঘটে মারাত্মক বিষক্রিয়া। এমনি সব অভিজ্ঞতা থেকে বিভিন্ন সমাজে উদ্ভব ঘটে উদ্ভিদের গুপ্ত রহস্যের অধিকারী ‘ওঝা’ বা বৈদ্যের। কখনো এসব চিকিৎসার সাথে যোগ হয় নানা রকম জাদু বা তন্ত্রমন্ত্র।

হাজার হাজার বছরের অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে নানা দেশের মানুষ যেসব দেশজ চিকিৎসারীতির উদ্ভব ঘটিয়েছে তা আধুনিক বিজ্ঞানের বিপুল অগ্রগতি সত্ত্বেও দুনিয়ার সব দেশেই কোন না কোনভাবে এখনও চালু আছে। লোকায়ত জ্ঞান অনেক ক্ষেত্রে আধুনিক গবেষণার কল্যাণে আরো ব্যাপ্ত হয়ে নতুন নতুন ধরনের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হচ্ছে। আমাজান উপত্যকার আদিম অধিবাসীরা বিষাক্ত তীরের ডগায় কুরারে (Curare) নামে এক জাতের উদ্ভিদ-বিষ ব্যবহার করতো। এটা আজকাল পেটের শল্য চিকিৎসায় মাংসপেশীকে প্রশান্ত করতে ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে বহু প্রাচীনকাল থেকে মস্তিষ্ক বিকৃতিতে সর্পগন্ধার ব্যবহার প্রচলিত ছিল। সাম্প্রতিককালে এ থেকে নানা ধরনের অ্যালকালয়েড সংগৃহীত হয়েছে এবং আধুনিক চিকিৎসায় রেজার্পিন, সার্পাসিল প্রভৃতি ওষুধের আকারে রক্তচাপ ও অন্যান্য রোগে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

হাঁপানির চিকিৎসায় ব্যবহৃত এফেড্রিন (Ephedrine) পাওয়া যায় এফেড্রা নামে একটি গুল্মজাতীয় উদ্ভিদ থেকে। চীন দেশে এই গুল্মটি ব্যবহৃত হচ্ছে অন্তত পাঁচ হাজার বছর ধরে। নানা ধরনের বেদনানাশক ও প্রশান্তিদায়ক উদ্ভিজ্জ ওষুধের ব্যবহার বহু প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। মিসরে প্রায় চার হাজার বছর আগের চিকিৎসাবিদ্যার গ্রন্থে সাত শ’ রকম উদ্ভিজ্জ ওষুধের বিবরণ পাওয়া যায়। আজ থেকে আড়াই হাজার বছরের পুরনো ভারতীয় সুশ্ৰুত-সংহিতাতেও বর্ণনা রয়েছে সাত শ’র বেশি উদ্ভিজ্জ ওষুধের।

প্রাচীনকালের লোকেরা উদ্ভিদের ভেষজ গুণ পরীক্ষা করে কতকগুলো তত্ত্বেরও জন্ম দেয়। তার মধ্যে একটি হল ‘চিহ্নের তত্ত্ব’ অর্থাৎ প্রতিটি উদ্ভিদ তার উপকারী গুণাগুণ বাইরের কোন চিহ্নের মাধ্যমে প্রকাশ করে। যেমন, কোন উদ্ভিদের গা থেকে দুধের মতো সাদা রঙের কষ বেরোলে বুঝতে হবে তা থেকে এমন ওষুধ পাওয়া যাবে যাতে মায়ের বুকের দুগ্ধ নিঃসরণ বাড়বে। যদি কষের রঙ হয় হলুদ তাহলে তা থেকে পাওয়া যাবে জন্ডিস বা কামলা রোগের ওষুধ। মাংসল উদ্ভিদ শীর্ণ লোকের দেহে মাংস বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে। আখরোটের খাঁজকাটা আকার বলে দেয় এটা মস্তিষ্কের ব্যাধির জন্য উপকারী, তেমনি শিমের আকার থেকে বোঝা যায় এটা কিডনি বা বৃক্কের রোগের জন্য ভাল। এই ‘তুল্য দিয়ে তুল্যের চিকিৎসা’র বিপরীত তত্ত্বও অবশ্য ছিল; গ্ৰীক চিকিৎসাবিদ হিপোক্র্যাটিস (৪৬০-৩৭০, খ্ৰীঃ পূঃ) ও গ্যালেনের (১৩০-২০০ খ্ৰীঃ) চিকিৎসা পদ্ধতি ছিল ‘বিপরীত দিয়ে বিপরীতের উপশম’ নীতির ভিত্তিতে। যেমন কৃশকায় রোগীর চিকিৎসায় উপকার পাওয়া যেতে পারে রসালো উদ্ভিদ প্রয়োগে। 

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Mohammad Shamim

  • Rating Star

    “ ” - Parvej

  • Rating Star

    “ ” - Musfiqur Rahman

  • Rating Star

    “ ” - Avro Mahato

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!