logo
0
item(s)

বিষয় লিস্ট

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর ঈশপের গল্প

ঈশপের গল্প
এক নজরে

মোট পাতা: 96

বিষয়: চিরায়ত

বাঘ ও বক

 

 

 

একবার এক বাঘের গলায় হাড় ফুটেছিল। অনেক চেষ্টার পরও সে কিছুতেই গলা থেকে হাড় বের করতে পারল না। যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে চারিদিকে দৌড়ে বেড়াতে লাগল। যে জানোয়ারকে সামনে দেখল তাকেই বলল, ভাই, তুমি যদি আমার গলা থেকে হাড় বের করে দাও, তাহলে তোমায় অনেক পুরস্কার দেব। আর চিরকালের জন্যে তোমার গোলাম হয়ে থাকব।

কিন্তু কেউই ভয়ে রাজি হল না।

শেষে এক বক পুরস্কারের লোভে রাজি হল। সে বাঘের মুখে তার লম্বা ঠোঁট ঢুকিয়ে দিয়ে হাড় বের করে আনল।

বাঘ সুস্থ হল। বক তখন বাঘের কাছে পুরস্কার চাইল। পুরস্কারের কথা শুনে বাঘ দাঁত কড়মড় আর চোখ লাল করে বলল, ওরে উজবুক, তুই বাঘের মুখে ঠোঁট ঢুকিয়ে দিয়েছিলি। তুই যে ঠোঁট বের করে আনতে পেরেছিস, এটাই তো পরম ভাগ্য। আবার কিনা পুরস্কার চাস! যদি বাঁচার সাধ থাকে, আমার সামনে থেকে পালা। নইলে এখনই তোর ঘাড় ভাঙবো।

বাঘের কথায় ভয়ে বক তখুনি সেখান থেকে পালাল।


দাঁড়কাক ও ময়ূর পালক

 

 

 

এক জায়গায় কয়েকটা ময়ূরের পালক পড়েছিল।

একটা দাঁড়কাক সেগুলো দেখতে পেল। সে মনে মনে ভাবল, যদি আমি এই ময়ূরের পালকগুলো নিজের পাখায় লাগাই, তাহলে আমাকেও ময়ূরের মতো সুন্দর দেখাবে।

এই ভেবে দাঁড়কাক ময়ূরের পালক নিজের পাখায় গুঁজে নিল। তারপর সে দাঁড়কাকদের কাছে গিয়ে বলল, তোরা অতি নীচ ও কুৎসিত। আমি আর তোদের সাথে থাকব না। এই বলে সে ময়ূরের দলে মিশতে গেল।

দাঁড়কাককে দেখেই ময়ূরেরা চিনতে পারল। তখন সবাই মিলে তার পাখা থেকে ময়ূরের পালকগুলো তুলে নিল। তারপর তাকে জোরে জোরে ঠোকরাতে লাগল।

দাঁড়কাক সেখান থেকে পালিয়ে গিয়ে আবার মিশতে গেল নিজের দলে।

তখন দাঁড়কাকেরা ঠাট্টা করে বলল, ওরে বোকা, ময়ূরের পালক পরে তুই আমাদের বকা দিয়ে ময়ূরের দলে মিশতে গিয়েছিলি। সেখানে নাকাল হয়ে আবার আমাদের দলে ফেরত এসেছিস! তুই এতো বেহায়া!

এই বলে তারা ওই দাঁড়কাককে দল থেকে তাড়িয়ে দিল।


সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Robi User

  • Rating Star

    “ ” - Robi User

  • Rating Star

    “ ” - Limon Das

  • Rating Star

    “ ” - omer faruk

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!