কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

তাহমিনা সানি এর স্বর্ণদেবতার অভিশাপ

এক নজরে

মোট পাতা: 112

বিষয়: রহস্য গল্প

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

স্বর্ণদেবতার অভিশাপ

 

একটা বিভীষিকাময় দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে এলাম। ভাবতেই পারিনিগবেষণার কাজে এসে এমন রহস্যময় একটা ঘটনায় জড়িয়ে পড়তে হবে। মাথার ভেতরটা কেমন যেন ঘোলাটে ঘোলাটে হয়ে আছে। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলায় দ্বিধান্বিত অবস্থায় আছি। বুঝতে পারছি নাএ রহস্যের শেষ কোথায়? এর ভবিতব্যটাই বা কী?

ডগলাসের দিকে তাকিয়ে বুঝলাম এখনো সে ঘোরের মধ্যে আছে। তবে কাঁপাকাঁপি থামিয়ে সে এখন মোটামুটি সুস্থির। কেবল ফাঁকা ফাঁকা বিহবল একটা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। মাথা উঁচু করে যেখানে সদর্পে দাঁড়িয়ে আছে অদ্ভুতাকৃতির পিরামিডটা। আমি, ডগলাস আর প্রফেসর তানাকুশি মিলে বিগত এক সপ্তাহ আগে যেটা আবিষ্কার করেছি। রহস্যময় এক পিরাডিম!

বাইরের দিকটা দেখতে ঠিক পিরামিডের গায়ের মতো নয়। বিশাল স্টেপ স্টেপ মতো। আর গিজার পিরামিডের মতো চূড়ার দিকটা অমন ত্রিভূজাকৃতিরও নয়অর্থাৎ মাথার যেদিকটা কোনা হয়ে ত্রিভূজ রূপ নেয়ার কথা সেদিকটা কাটাছাদ মতো। নানা আকৃতির উঁচু উঁচু ঢিবির আর তার ওপর গজানো গাছপালার আড়ালে চাপা পড়তে ওটাকে দেখাই যায় না। হাজার হাজার বছর ধরে ধুলো ধুলো আর মাটির আস্তরণ পড়ে পড়ে ওটাকেই দেখাচ্ছিল দেড়শ ফুট উঁচু ঢিবির মতো।

প্রফেসর তানাকুশিই প্রথম দেখতে পায় বিশাল ঢিবিটা। প্রথমে সবাই দ্বিধান্বিত। ঠিক দেখছি তো? মোহাচ্ছন্নের মতো দাঁড়িয়ে অবাক দৃষ্টিতে দেখা ছাড়া আমাদের তিন প্রত্নতাত্ত্বিকের আর কিছুই করার ছিল না। পা যেন মাটিতে গেঁথে গেছে। সত্যি যদি মায়া সভ্যতার কোনো পিরামিড হয়ে থাকে তাহলে তো কথাই নেই। সামনের মাসের পাঁচ তারিখে ওয়ার্ল্ড আর্কিওলজি-কনফারেন্সেসের আগেই যদি এর একটা ডকুমেন্ট জমা দিতে পারি তাহলে বিশ্বব্যাপী সুনাম এবং শ্রদ্ধা দুটোই বেড়ে যাবে। এটা নিশ্চিত।

সবাই নেমে গেলাম ঢিবি বেয়ে। ডগলাস এবং তানাকুশি মিলে পিরামিডটার প্রবেশ পথ খুঁজতে উঠেপড়ে লেগে গেল। গোড়ার দিকটায় অনেক খোঁজাখুঁজি করল কিন্তু পেল না। আমিও লেগে গেলাম।

পূর্বে বিষুব রেখার দিকে পিরামিডটার যে দিকটা ফেরানো তার গোড়ার দিকে বেশ সন্দেহজনক একটা ফাটল মতো জায়গা চোখে পড়লো। স্মেটোগ্রাফ নিয়ে খানিকক্ষণ গুঁতোগুতি করলাম। লাভ হলো না। শেষে তখনকার মতো খ্যান্ত দিলাম। খানিক বিশ্রাম আর দুপুরের খাওয়া সেরে নিয়ে চলল আবারও খোঁজা। ওরা সবাই যখন প্রবেশ পথ খুঁজতে ব্যস্ত, আমি তখন স্থির দাঁড়িয়ে। হাল ছেড়ে দিয়েছি তা নয়। আমার মাথায় তখন ঝড়ের গতিতে চিন্তা চলছিল। ব্যাপারটা অদ্ভুতও বলা যায়। কারণ ধুলোবালি আর ঝড়বৃষ্টিতে পিরামিডটা যেটুকু ক্ষয় হয়েছে তা অস্বাভাবিক। সাধারণ যে কোনো পর্বত বা স্থাপনার ক্ষয় হয় অনুভূমিক। কিন্তু এর ক্ষয়ের চিহ্নগুলো উলম্ব! তা ছাড়া আমি নিশ্চিত এমন সাদামাঠাভাবে এর প্রবেশপথ লুকানো নেই। পুরো কাঠামোটাই আমার অদ্ভুত ঠেকছে এর প্রবেশপথও যে এর মতো অদ্ভুত হবে এটাই কাম্যএবং এটাই উচিত। যাই হোক। প্রাণপণ চেষ্টার পরও যখন পিরামিডটার প্রবেশ পথ পাওয়ার কোনো আশা খুঁজে পেলাম না তখন খ্যান্তই দিলাম সবাই।

প্রফেসর মাহমুদ? চলো ফিরে যাই। আমার আজ আর হবে না।

ভাঙা ভাঙা ইংরেজিতে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল জাপানি প্রত্নতাত্ত্বিকপ্রফেসর তানাকুশি। ভদ্রলোকের ইংরেজি শুনলে আর কিছু বলতে ইচ্ছে করে না। উনার ইংরেজি বলতে যতটা না কষ্ট হয়উনার ভাঙা ভাঙা ইংরেজির পাঠোদ্ধার করতে যেয়ে আমার ততোধিক ঘাম ঝরে। ভাঙা ইংরেজি জোড়া লাগাতে লাগাতে মাঝে মাঝে মনে হয়, আমি নিজেও একদিন বলে ফেলব—‘প্রফেসর তানাকুশি? ইউ আর আ গুত আরোকিওলজিস্ত!’

তানাকুশির হালছাড়া কথা শুনে হাঃ হাঃ হাঃ করে হেসে ওঠে প্রফেসর ডগলাস।

ঠিকই বলেছ প্রফেসর তানাকুশি? আজ আমাদের কারোরই হবে না। কাল আবার আসবো। আসার সময় মনে করে অবশ্যই শক্তিশালী ডিনামাইট নিয়ে আসতে হবে। অদ্ভুত পিরামিডটার গোড়ার দিকটায় দেখেশুনে বিকট একটা বিস্ফোরণ না ঘটালেই নয়।ডগলাসের গলায় কৌতুকের সুর।

আমিও সুর ধরলাম ডগলাসের কথায়, ‘সে তো হবে। কিন্তু বন্ধুবরেরা? যা কিছুই করি, খুব সাবধানে করতে হবে। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে কেলেঙ্কারি একটা করে ফেললে কিন্তু সর্বনাশ। আমার বাংলাদেশের মান তো ডুববেই। সেই সাথে আমাদেরও।

আমার কিন্তু খুব কৌতূহল হচ্ছে প্রফেসর মাহমুদ? এখনো বিশ্ববাসী জানে না তাদের সামনে কত আশ্চর্য একটা নিদর্শন উপহার দিতে যাচ্ছি। আমাদের গ্রেট আবিষ্কার! ধারণা করছি এটা মায়া সভ্যতার সময়কার। তারপরও এখনই কাউকে জানাতে চাচ্ছি না। আমি নিশ্চিত। শুধু অবস্থানটা বলে দিলেই বিশ্বের যত বৈজ্ঞানিক, প্রত্নতাত্ত্বিক, সাংবাদিক, পর্যটক আছে সব একসাথে হুমড়ি খেয়ে পড়বে এ জায়গায়। শেষে আমাদের আবিষ্কারের মুডটাই নষ্ট হবে। ভেবে দেখ! একবার ভেতরে ঢুকে যদি গবেষণা চালিয়ে যেতে পারি...! ওহ! দারুণ হবে। কী বল প্রফেসর তানাকুশি?’

ইয়েস। গুত থিনকিন। গুত থিনকিন!’

তুমি কী বল প্রফেসর মাহমুদ?’

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!