কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

ড. জালালুর রহমান এর বিজ্ঞানময় আল-কোরআন

এক নজরে

মোট পাতা: 64

বিষয়: ইসলামিক বই

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

বিজ্ঞানময় আল-কোরআন

আল-কোরআনের পরিচয়

 

পরম করুণাময় আল্লাহতায়ালা মানবজাতির পথপ্রদর্শক হিসাবে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর মাধ্যমে আল-কোরআন অবতীর্ণ করিয়াছেন। ক্ষণস্থায়ী পার্থিব জীবনযাপন শেষে পরকালের অনন্ত জীবন আনন্দময় করিয়া তুলিতে কিছু আদেশ পালন করা ও কিছু কাজ হইতে বিরত থাকিতে ইহাতে বলা হইয়াছে। আল-কোরআনের অনেক অংশ জুড়িয়া পূর্ববর্তী জাতিসমূহের ইতিহাস বর্ণনা করা হইয়াছে যাহাতে মানবজাতি সেই সব ঘটনা হইতে শিক্ষালাভ করিয়া নিজেদেরকে ঢালিয়া সাজাইতে পারে। ইহার কিছু শব্দ রূপক অর্থে ব্যবহৃত হইলেও (যাহার আলোচনা নিষেধ) বহু বৈজ্ঞানিক নিদর্শন নিয়া চিন্তা-ভাবনা করিতে নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে, কারণ কোরআন তো বিজ্ঞানময়। ইহা প্রবল পরাক্রমশালী মহাবিজ্ঞানী আল্লাহর পক্ষ হইতে অবতীর্ণ হইয়াছে (যুমার-); ইহাতে কোনো প্রকার সন্দেহ নাই, এইটা হেদায়েত ও মুত্তাকীদের জন্য পথপ্রদর্শক (বাকারা-)ইহা সবকিছুর ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও বিস্তারিত ব্যাখ্যাদানকারী, রহমত ও সকল মুসলমানের জন্য সুসংবাদদানকারী (নহল-৮৯)সৎকর্মশীল লোকেদের জন্য ইহা হেদায়েত ও রহমত। যাহারা নামাজ কায়েম করে, যাকাত দান করে ও পরকালের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস রাখে, তাহারাই রবের পক্ষ হইতে হেদায়েতের উপর রহিয়াছে এবং তাহারাই সফলকাম (লোকমান ২-)অপরদিকে যে ব্যক্তি আল্লাহর উপদেশ হইতে বঞ্চিত হয়, আমি তাহার উপর এক শয়তান বলবৎ করিয়া দিই যে সর্বদা তাহার সঙ্গী থাকে। শয়তানের দল সৎপথ হইতে বাধা দিতে থাকে অথচ ইহারা মনে করে যে তাহারা সৎপথে আছে (যখরুফ ৩৬-৩৭)

দিবারাত্রির পরিবর্তন, শীতগ্রীষ্মের আগমন, ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাসদানে যেই সব পদ্ধতি ব্যবহৃত হইতেছে, সেই সবের ভিত্তি স্থাপিত হইয়াছিল ইসলামের স্বর্ণযুগ বলিয়া খ্যাত আব্বাসীয় ও তুর্কীয় খেলাফতের সময়। বর্তমান সময়ে  বিজ্ঞানের ব্যাপকতা অকল্পনীয়ভাবে বিস্তৃত হইতেছে। টেস্ট টিউবে শিশু, স্টেম সেলের মাধ্যমে ক্ষতিকর জিনেরঅপসারণ, ‘ডিএনএ’-এর মানচিত্র আবিষ্কারে রোগ নিরাময়, যোগাযোগ ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তি প্রভৃতি তাহারই প্রমাণ। বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার কারণেই পৃথিবী হইতে মহাবিশ্বে ভ্রমণের প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। আল্লাহপাক যেহেতু মানুষকে তাঁহার বিশাল সৃষ্টি নিয়া গবেষণা করিতে আহ্বান করিয়াছেন, তাই পবিত্র কোরআনকে প্রকৃতির বিধান, মহাবিশ্ব ও তাহার অন্তর্গত সকল বস্তু ও শক্তিকে বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত দিয়া সাজাইয়াছেন। এইসব তথ্যাদির ব্যাপকতা দিন দিন বৃদ্ধি পাইতেছে এবং যাহা আধুনিক বিজ্ঞান এক এক করিয়া প্রমাণ করিয়া চলিতেছে। ‘‘নিশ্চয় পৃথিবী ও আকাশসমূহে ঈমানদারদের জন্য প্রমাণাদি রহিয়াছে’’ (যাছিয়া-)এই সম্বন্ধে নিউটন বলিয়াছেন, একমাত্র চরম বুদ্ধিমান ও পরম ক্ষমতাবান এক শক্তির নির্দেশেই সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র ও ধূমকেতুর সমারোহে এই আশ্চর্য সুন্দর জগৎ সৃষ্টি হইয়াছে। অন্ধের যেমন বর্ণ সম্বন্ধে কোনো জ্ঞান নাই, তেমনি শ্রেষ্ঠবিজ্ঞানী আল্লাহ সম্বন্ধে ধারণা করিতে আমরা সম্পূর্ণ অক্ষম। আইনস্টাইন আরও একধাপ অগ্রসর হইয়া বলিয়াছেন, তুমি আমাদিগকে তোমারই জন্য সৃষ্টি করিয়াছ। আমাদিগের আত্মা তাই যতক্ষণ না তোমাতে আশ্রয় লাভ করে ততক্ষণ অশান্ত থাকে। তাহার মতে বিজ্ঞান ব্যতিরেকে ধর্ম অন্ধ আর ধর্ম ব্যতিরেকে বিজ্ঞান খোঁড়া। জেমস জীনসের মত ইউরোপীয় নাস্তিক জ্যোতির্বিদও স্বীকার করিয়াছেন যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস না করিয়া বিজ্ঞানের মৌলিক সমস্যাদির সমাধান সম্ভব নয়।

বর্তমানে বিজ্ঞানের যে সীমাহীন অগ্রগতি ও উন্নতি সাধন হইতেছে, ইহার পিছনে অমুসলিম সমাজের অবদানই বেশি। তাহারা আল্লাহর কিতাবকে প্রাধান্য না দিয়া বিজ্ঞানের সাফল্যকেই বেশি প্রাধান্য দিতেছে যাহার ফলে বস্তুবাদী চিন্তাচেতনায় আচ্ছন্ন হইয়া পরকালমুখী সকল কর্মকাণ্ড বাদ দিয়া পার্থিব ভোগবিলাসে মত্ত হইয়া পড়িয়াছে। আল্লাহতায়ালা মুসলিমদের হাতে আল-কোরআন এবং অমুসলিমদের হাতে সাফল্যেভরা বিজ্ঞান তুলিয়া দিয়া পরকালের এক পবিত্র জবাবদিহিতার শিকলে উভয় দলকেই বাঁধিয়া ফেলিয়াছেন। আল্লাহ যেহেতু নিজ পরিকল্পনায় এ মহাবিশ্ব সৃষ্টি করিয়াছেন, তাই তিনি ভালো করিয়াই জানেন যে সময়ের আবর্তনে এ পৃথিবীর মানবমণ্ডলী এক পর্যায়ে এমন এক কঠিন সময় অতিক্রম করিবে যখন জ্ঞানবিজ্ঞানের উৎকর্ষতার মানদণ্ডে বিচার করিয়া প্রতিটি বিষয় গ্রহণ বা বর্জন করিবে। আল্লাহর পক্ষ হইতে আগত জ্ঞান-বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ গ্রন্থ মানবসমাজ গ্রহণ না করিলে তাহাদের জন্য বড়ই ক্ষতিকর বিষয় হইবে। ইহাতে বৈজ্ঞানিক তথ্যাবলী সংযোজন করা হইয়াছে যাহাতে

. ইহা পাঠ করিলে বিশ্বাসীদের ঈমান বৃদ্ধি ও মজবুত হয়।

. অবিশ্বাসীদের অযৌক্তিক কল্পনার অবসাদ ঘটাইয়া মুক্তির পথ বলিয়া দেয়।

. একক স্রষ্টার বিধানে মানবজাতিকে শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হিসাবে গড়িয়া মানবসৃষ্টির উদ্দেশ্য সফল হয়।

. সর্বোপরি মানবসমাজ আল্লাহর নির্দেশিত পথে জ্ঞানের ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্বপ্রভুর সন্তুষ্টি অর্জন করিয়া চিরসুখের বেহেশত লাভ করে।

আল-কোরআন মৌলিকভাবে বিজ্ঞানের পুস্তক না হইলেও ইহাতে প্রায় হাজারখানেক আয়াত বিজ্ঞানের সহিত জড়িত। আমাদিগের দৃশ্যমান মহাবিশ্বের সৃষ্টি হইতে শুরু করিয়া গ্যালাক্সি, কোয়াসার, নক্ষত্র, গ্রহ-উপগ্রহ, ধূমকেতু, নেবুলা, ব্লাvকহোল, সুপারনোভা, এমনকি অণু-পরমাণু, উপ-আণবিক কণিকা, ফোটন কণিকার বিবরণ ইহাতে দেওয়া আছে। বিজ্ঞান যখন যে বিষয়ের আবিষ্কার করিতে সক্ষম হইবে তখনই সেই আবিষ্কারের তথ্য আল-কোরআনের উজ্জ্বল কিরণ ছড়াইয়া ঝলমল করিতে দেখিতে পাইবো। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারসমূহের হুবহু বর্ণনা কোরআনে অনুপস্থিত কারণ 

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Tawhid Shakil

  • Rating Star

    “ ” - MOHAMMAD MUSTAFIZUR RAHMAN

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!