logo
0
item(s)

বিষয় লিস্ট

আহসান হাবীব এর যত হাসি তত কান্না বলে গেছে রাম সন্না

হ্যালোউইন

 

ঢাকা শহর এখন অনেক স্মার্ট! ঢাকায় আজকাল কমিকন হয়, হ্যালোউইন নাইট হয়। আরো বিজাতীয় কত কিছু যে হয় আমাদের হয়তো জানাই নেই। আমি এক কার্টুনিস্টকে জানি। যে হ্যালোউইন সিজনে বাঙ্গি কেটে বড় লোক হয়ে গেছে। মানে বাঙ্গি কেটে যে হ্যালোউইন ভূতের মাথা বানানো হয় যার ভেতরে মোম জ্বলে (বিদেশি কার্টুনে প্রায়ই দেখা যায়)। সেই জিনিস হ্যালোউইন সিজনে কন্ট্রাকে তৈরি করে সে বড়লোক।

দেশীয় হ্যালোউইনের গল্প বলার আগে বরং একটা বিদেশি হ্যালোউইনের গল্প বলে নিই। বিদেশের এক শহরে হ্যালোউইন নাইট হবে। স্বামী-স্ত্রী ঠিক করল তারা দুজনেই হ্যালোউইন পার্টিতে যাবে ভৌতিক কাস্টিউম পরে। কিন্তু হঠাৎ করে স্ত্রীর মাথা ব্যথা শুরু হলো বলে স্ত্রী বলল,

শোন আমার প্রচণ্ড মাথা ব্যথা করছে, আমি হ্যালোউইন পার্টিতে যাব না।

সেকি! তুমি না গেলে আমিও যাব না।

না না, সেকি তুমি যাবে না কেন? আমার জন্য তোমার আনন্দ নষ্ট করবে কেন? প্লিজ তুমি যাও। স্বামী অবশেষে রাজি হলো। কাস্টিউম পরে রওনা দিলো পার্টিতে আর বউ একটা অ্যাসপিরিন খেয়ে ঘুম দিলো।

ঘণ্টাখানেক পরে স্ত্রীর ঘুম ভাঙল। স্ত্রী দেখে-আরে এক ফোঁটা মাথা ব্যথা নেই। আচ্ছা, এখন হ্যালোউইন পার্টিতে গেলে কেমন হয়? যাই ভাবা তাই কাজ। স্ত্রী ঠিক করল স্বামীকে সারপ্রাইজ দেবে। সে অন্য একটা কাস্টিউম পরে রওনা দিলো। স্বামী কি কাস্টিউম পরে গেছে তার তো জানাই আছে কিন্তু স্ত্রীর কাস্টিউমটা স্বামীর জানা নেই।

যাহোক পার্টিতে গিয়ে দেখে-স্বামী তো দিব্যি এক মেয়ের সঙ্গে নাচছে। (কাস্টিউম দেখে বুঝেছে কোনটা তার স্বামী)। সেও কায়দা করে স্বামীর দিকে এগিয়ে গেল। স্বামীও কি মনে করে ওই মেয়েটিকে ছেড়ে তাকে (মানে স্ত্রীকে) নিয়ে নাচতে শুরু করল। নাচতে নাচতে (মাঝে মাঝে পান করতে করতে) তারা এতটাই উন্মাতাল হয়ে গেল যে এক ফাঁকে তারা একটি খালি রুমে গিয়ে... দম্পতিরা যা করে তাই করল। স্ত্রী ভাবল সত্যি তার স্বামী এতটা রোমান্টিক আজ পার্টিতে না এলে জানাই হতো না। তবে স্ত্রী কিন্তু তার কাস্টিউম মানে মাস্ক খুলল না। স্বামী বাসায় গিয়ে সারপ্রাইজ দেবে এ রকম প্ল্যান। এক ফাঁকে সে সরে পড়ল এবং বাসায় চলে এলো। কাস্টিউম মাস্ক খুলে স্বাভাবিক পোশাক পরে ডাইনিং টেবিলে বসে রইল, হাতে হালকা লিকারের গ্লাস। একটু পরে স্বামী এলো। স্ত্রী বলল,

কি গো পার্টি কেমন জমল?

জমবে মানে তুমি নেই বলে আমি মোটেই মজা পাচ্ছিলাম না পার্টিতে।

তাই? তা কী করলে পরে?

সত্যি কথা বলতে কি, আমি পাশের রুমে গিয়ে বিল আর পিটারের সঙ্গে পোকার খেললাম... তবে আমার কাস্টিউমটা যাকে ধার দিয়েছিলাম সে ব্যাটা মজা মেরেছে... কাস্টিউম পরা আরেক মেয়েকে বাগিয়ে নাচতে নাচতে একরুমে গিয়ে... । ঝননন শব্দ হলো। স্ত্রীর হাত থেকে লিকারের গ্লাস পড়ে চুরমার।

এবার দেশীয় হ্যালোউইনের গল্প শোনা যাক। গুলশানের দিকে এক বাড়িতে হ্যালোউইন পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। এক তরুণ ভূত সেজে রওনা দিয়েছে সেই বাড়ির উদ্দেশে। পথে এক স্কন্ধকাটা ভূতের সঙ্গে দেখা (এই ভূত অবশ্য সত্যি সত্যি স্কন্ধকাটা ভূত। গ্রাম থেকে পথ হারিয়ে ঢাকা শহরে চলে এসেছে) তরুণ বলল         

বাহ তুমি তো ভালো সেজেছ? মাথাটা নাই করলে কীভাবে? (স্কন্ধকাটা সত্যি ভূত কোনো জবাব দিলো না)

আচ্ছা চল সময় নষ্ট না করে হ্যালোউইন পার্টিতে যাই...

হ্যালোউইন পার্টিতে সবাই মুগ্ধ হয় স্কন্ধকাটা ভূতকে দেখে! তাকে ঘিরে নানারকম মন্তব্য চলতে লাগল।

আরে দেখ দেখ ওর মাথা নেই।

এ দেশে বাস করলে মাথার দরকার নেই।

আরে না ও মনে হয় গলাকাটা পাসপোর্টে বিদেশ ঘুরে এসেছে। এখনো মাথা লাগায়নি।

এর মধ্যে একজন এগিয়ে এসে স্কন্ধকাটা ভূতকে আড়ালে নিয়ে গেল। ফিস ফিস করে বলল দেখ আমি কিন্তু ঠিকই বুঝেছি যে তুমি কোনো কাস্টিউম পরে আসনি। তুমি আসলেই সত্যি স্কন্ধকাটা ভূত।

স্কন্ধকাটা তো এবার একটা স্পষ্ট শব্দ করল যেটাকে সম্মতিসূচক হাসির শব্দ বলা যেতে পারে। সেই একজন এবার দ্বিতীয় প্রশ্নটি করল-

আচ্ছা ঠিক করে বলত মাথা না থাকায় তোমার সুবিধাটা কী?

এবার নাকি সুরে ফিস ফিস করল স্কন্ধকাটা ভূত মাথা ব্যথার জন্য কখনো মাঝরাতে উঠে অ্যাসপিরিন খেতে হয় না!

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ভাল, পড়ে দেখতে পারেন। ” - Rakibul Dolon

  • Rating Star

    “ ” - hasan shahriar shawon

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!