কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর বিজ্ঞানী সফদর আলীর মহা মহা আবিষ্কার

এক নজরে

মোট পাতা: 225

বিষয়: রম্য

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

কাচ্চি বিরিয়ানি

 

বিজ্ঞানী সফদর আলীর সাথে আমার পরিচয় জিলিপি খেতে গিয়ে। আমার জিলিপি খেতে খুব ভাল লাগে, গরম গরম মুচমুচে জিলিপি থেকে ভাল খেতে আর কী আছে? আমি তাই সময় পেলেই কাওরানবাজারের কাছে একটা দোকানে জিলিপি খেতে আসি। আজকাল আর কিছু বলতে হয় না, আমাকে দেখলেই দোকানি একগাল হেসে বলে, বসেন স্যার। আর দশ মিনিট। অর্থাৎ জিলিপি ভাজা শেষ হতে আর দশ মিনিট। দোকানের বাচ্চা ছেলেটা খবরের কাগজটা দিয়ে যায়, আমি বসে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি, খবরগুলো পড়ে বিজ্ঞাপনে চোখ বোলাতে বোলাতে জিলিপি এসে যায়। খেয়ে আমাকে বলতে হয় কেমন হয়েছে, ভাল না হলে নাকি পয়সা দিতে হবে না।

সেদিনও তেমনি বসেছি জিলিপি খেতে, প্লেটে গরম জিলিপি থেকে ধোঁয়া উঠছে, আমি সাবধানে একটা নিয়ে কামড় দেবার চেষ্টা করছি, এত গরম যে একটু অসাবধান হলেই জিভ পুড়ে যাবে! তখন আমার সামনে আরেকজন এসে বসলেন; ছোটখাটো শুকনোমতন চেহারা, মাথায় এলোমেলো চুল; মুখে বেমানান বড় বড় গোঁফ। চোখে ভারী চশমা দেখে কেমন যেন রাগী-রাগী মনে হয়। শার্টের পকেটটি অনেক বড়, নানারকম জিনিসে সেটি ভর্তি, মনে হল সেখানে জ্যান্ত জিনিসও কিছু-একটা আছে; কারণ কিছু-একটা যেন সেখানে নড়াচড়া করছে! ভদ্রলোকটিও জিলিপি অর্ডার দিলেন, আমার মতন নিশ্চয়ই জিলিপি খেতে পছন্দ করেন। জিলিপি আসার সাথে সাথে তিনি পকেট থেকে টর্চলাইটের মতো একটি জিনিস বের করলেন, সেটার সামনে কয়েকটি ছুঁচালো কাঁটা বের হয়ে আছে। জিনিসটি দিয়ে তিনি একটা জিলিপি গেঁথে ফেলে কোথায় যেন একটা সুইচ টিপে দেন, সাথে সাথে ভিতরে একটা পাখা শোঁ শোঁ করে ঘুরতে থাকে, ভিতর থেকে জোরে বাতাস বের হয়ে আসে। দশ সেকেন্ডে জিলিপি ঠাণ্ডা হয়ে আসে, সাথে সাথে তিনি জিলিপিটা মুখে পুরে দিয়ে তৃপ্তি করে চিবুতে থাকেন। আমি অবাক হয়ে পুরো ব্যাপারটি লক্ষ করছিলাম, আমার চোখে চোখ পড়তেই ভদ্রলোক একটু লাজুকভাবে হেসে বললেন, জিলিপি খেতে গিয়ে সময় নষ্ট করে কী লাভ?

সত্যি তিনি সময় নষ্ট করলেন না, আমি দুটো জিলিপি খেয়ে শেষ করতে করতে তাঁর পুরো পেস্নট শেষ। সময় নিয়ে তাঁর সত্যি সমস্যা রয়েছে; কারণ, হঠাৎ তাঁর শার্টের কোনো-একটা পকেট থেকে অ্যালার্ম বেজে উঠে, সাথে সাথে তিনি লাফিয়ে উঠে পানি না খেয়েই প্রায় ছুটে বের হয়ে গেলেন। যাবার সময় পয়সা পর্যন্ত দিলেন না, হাত নেড়ে দোকানিকে কী একটা বলে গেলেন, দোকানিও মাথা নেড়ে খাতা বের করে কী-একটা লিখে রাখল।

আমি বের হবার সময় দোকানিকে জিজ্ঞেস করলাম, লোকটা কে? দোকানি নিজেও ভাল করে চেনে না, নাম সফদর আলী। মাসিক বন্দোবস্ত করা আছে, বৃহস্পতিবার করে নাকি জিলিপি খেতে আসেন। মাথায় টোকা দিয়ে দোকানি বলল, মাথায় একটু ছিট আছে।

ছিট জিনিসটা কী আমি জানি না। কিন্তু মাথায় সেটি থাকলে লোকগুলো একটু অন্যরকম হয়ে যায়; আর ঠিক এই ধরনের লোকই আমার খুব পছন্দ। কে এক সাধু নাকি দশ বছর থেকে হাত উপরে তুলে আছে শুনে আমি পকেটের পয়সা খরচ করে সীতাকুন্ডু গিয়েছিলাম। যখনই আমি খবর পাই কোনো পীর হাতের ছোঁয়ায় এক টাকার নোটকে একশো টাকা বানিয়ে ফেলছে, আমি সেটা নিজের চোখে দেখে আসার চেষ্টা করি। এতদিন হয়ে গেল, এখনও একটা সত্যিকার পীরের দেখা পাইনি, সবাই ভ-। আমার অবশ্যি তাতে কোনো ক্ষতি হয়নি, মজার মানুষ দেখা আমার উদ্দেশ্য, ভন্ড পীরের মতো মজার মানুষ আর কে আছে? সফদর আলী যদিও পীর নন, কিন্তু একটা মজার মানুষ তো বটেই। তাই সফদর আলীকে আবার দেখার জন্যে পরের বৃহস্পতিবার আমি আবার সেই দোকানে গিয়ে একই টেবিলে বসে অপেক্ষা করতে থাকি।

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Md Rifat

  • Rating Star

    “ ” - Shankor Chandra

  • Rating Star

    “Good ” - Rana

  • Rating Star

    “ ” - Rashed Safiullah

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!