কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

নঈম নিজাম এর ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া: সাংবাদিকতার কলাকৌশল

এক নজরে

মোট পাতা: 184

বিষয়: মিডিয়া

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

একজন সাংবাদিক কেমন হবেন

 

অধ্যাপক লরি মিসৌরি স্কুল অব জার্নালিজমের শিক্ষক। আগে কাজ করতেন সিএনএন এ। তাঁর সঙ্গে আমার দেখা ২০০৬ সালের এপ্রিলে। তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ ক্লাসে অংশ নিয়েছিলাম আমি আর হাসনাইন খুরশিদ। এই লরি আর টকশো খ্যাত লরি এক নন। অধ্যাপক লরি ডাকসাইটে রিপোর্টার ছিলেন। সিএনএন থেকে অবসর নেওয়ার পর যোগ দেন সাংবাদিকতার শিক্ষক হিসেবে। দারুণ মানুষ। সারা জীবন নানা অভিজ্ঞতায় ঠাসা। সোভিয়েত ইউনিয়ন বিভক্তির সিএনএন লাইভ নিউজে তিনি ছিলেন রিপোর্টার। লরি খেয়াল করলেন, সোভিয়েত বিভক্তির কাগজে স্বাক্ষর করছেন প্রেসিডেন্ট গর্ভাচেভ। কিন্তু কলম থেকে কালি বের হচ্ছে না। লরি বিষয়টি দৃষ্টিতে আনেন পাশে দাঁড়ানো সিএনএন চেয়ারম্যানের। তিনিও অনুষ্ঠানে ছিলেন। চেয়ারম্যান হাসলেন তারপর তাৎক্ষণিকভাবে নিজের পকেটে থাকা কলমটি বের করে দেন লরির হাতে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলম দিয়ে স্বাক্ষর হলো সোভিয়েত বিভক্তির। শুধু সোভিয়েত বিভক্তি নয় দুনিয়ার নানা অভিজ্ঞতায় ঠাসা লরির বর্ণাঢ্য জীবন। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় লরি ছিলেন ওয়ার রিপোর্টার। যুদ্ধের ময়দানে কীভাবে রিপোর্ট করতেন তাও তুলে ধরেন আমাদের সামনে। যুদ্ধের ময়দানে একজন সাংবাদিককে কতটা মাথা ঠাণ্ডা রাখতে হয়, কীভাবে সকল উত্তেজনা দূর করে পাঠিয়ে দিতে হয় হিমাগারে তাও তিনি তুলে ধরেন। তবে ইরাক ও আফগান যুদ্ধে মার্কিন ওয়ার রিপোর্টারদের এক তরফা ভূমিকা নিয়েও আমি তাকে প্রশ্ন করেছিলাম। এখানে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিকরা তার সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রের পলিসির বাইরে একচুলও যাননি। এই কারণেই আল-জাজিরার মতো টিভি চ্যানেল বিশ্ব জয় করে নেয়। প্রফেসর লরি এনিয়ে আমাদের সঙ্গে দ্বিমত  করেননি। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া আফগান ও ইরাকের মানবাধিকারের ধারে কাছেও যায়নি। তারা রিপোর্ট তৈরি করেছে মার্কিন সেনাবাহিনীর আশ্রয়ে থেকে। এই সাংবাদিকতার নাম অ্যমভেডেড জার্নালিজম। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশের সাংবাদিকরা জন্ম দিলেন অ্যমভেডেড জার্নালিজম নামের নতুন শব্দের। এই সাংবাদিকতা যুক্তরাষ্ট্রে এখনো চলছে।

প্রফেসর লরি আমাদের ক্লাসে ছিলেন প্রাণবন্ত। তার প্রতি আগ্রহের আরেকটি কারণ ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলোচিত পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিসিঞ্জারসহ দুনিয়ার অনেক ডাকসাইটে মানুষদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, যা সম্প্রচারিত হতো সিএনএনে। অভিজ্ঞতার ঝাপি খুলে দেন তিনি। আমরা তাকে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করি। জানতে চাই কীভাবে তিনি সাক্ষাৎকারগুলো নিতেন। কোনো ধরনের প্রশ্ন তিনি করতেন? প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় তারা বিরক্ত হতেন কিনা। তিনি বললেন, সাক্ষাৎকার নেয়ার আগে আমি হোম ওয়ার্ক করে নিতাম। তারপর সিদ্ধান্ত নিতাম কোন প্রশ্নগুলো করবো। সে প্রশ্নগুলোকে নোট আকারে সাজাতাম। তারপর সাক্ষাৎকার নিতাম। আবার অনেক সময় তাৎক্ষণিক সাক্ষাৎকারও নিয়েছি। তখন প্রশ্নগুলোকে সাজিয়ে নিয়েছি তাৎক্ষণিকভাবেই। ঘটনা সম্পর্কে জানলেই সাক্ষাৎকার নিতে সমস্যা হয় না। একজন সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার নেওয়ার আগেই সতর্ক থাকতে হবে তার বিষয়বস্তু সম্পর্কে। তাহলে আর সমস্যা হয় না। হেনরি কিসিঞ্জার সম্পর্কেও আমি জানতে চাই। কারণ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন এই কিসিঞ্জার। শুধু তাই নয়, স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডসহ অনেক বিষয়ে তার নাম এবং সিআইএর নাম চলে আসে। তাই এ ব্যাপারে আমার আগ্রহ ছিল। লরিও মনে করেন মার্কিন কূটনীতির ইতিহাসে সেরা চতুরদের তালিকায় রয়েছে কিসিঞ্জারের নাম। আমাদের কোনো প্রশ্নেই লরির কোনো বিরক্তি ছিল না। সব বিষয়ে উত্তর দিয়েছেন। বাদ থাকেনি সাংবাদিকতার খুঁটিনাটি নানারকম দিক নিয়েও। বিশেষ করে পেশাদারিত্বের বিষয়টি উঠে আসে। একজন সাংবাদিক কতটা পেশাদার হবেন? পরিশ্রমী হবেন? কীভাবে পেশায় সাফল্য অর্জন করবেন। লরি বলেছেন, এই পেশাটি মজাদার ও মর্যাদার। এই মজাটা সাংবাদিককে তৈরি করে নিতে হবে কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে। আর পেশাদারিত্বের প্রশ্নে থাকতে হবে আপসহীন যোদ্ধা। সীমাবদ্ধতা অনেক থাকবে। সংকট থাকবে। সব কিছু জয় করাই একজন পেশাদার সাংবাদিকের কাজ। পেশাদারিত্বের প্রশ্নে একবার আপস করছেন তো আপনি মরছেন।

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!