কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

মুহম্মদ জাফর ইকবাল এর হাত কাটা রবিন

হাত কাটা রবিন
এক নজরে

মোট পাতা: 133

বিষয়: কিশোর উপন্যাস

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

নতুন ভাড়াটে

আমাদের পাশের বাসটা অনেকদিন খালি পড়ে ছিল। গত রাতে নতুন ভাড়াটে এসেছে। আগে এখানে মাসুদরা থাকত। মাসুদ ছিল আমাদের এক নাম্বারের বন্ধু। তাই মাসুদের আব্বা বদলি হয়ে চলে গেলে আমরা সবাই মনমরা হয়ে কয়েকদিন ঘুরোঘুরি করেছিলাম। তারপর আমাদের হাসপাতালটা উঠে গেল। (সে যে কী দারুণ একটা হাসপাতাল আমাদের ছিল!) আমাদের হাসপাতালে মাসুদ ডাক্তার, ওর আব্বা ডাক্তার কিনা; আর আমরা সবাই নার্স। মাসুদরা চলে গেলে ডাক্তারের অভাব হয়ে গেল। তাই হাসপাতলটাও উঠে গেল। আমরা কেউ বুঝতে পারিনি যে মাসুদ চলে যাবে, তা হলে নাহয় আমরা কেউ ডাক্তারিটা শিখে নিতাম- ওটা এমন কিছু কঠিন নয়।

মাসুদরা চলে গেলে ওই বাসায় যারা এসেছিল তাদের আব্বাও ডাক্তার। এটা সরকারি ডাক্তারের বাসা আর এখানে সব সময় ডাক্তার আসেন। আমরা ভাবলাম এ-ছেলেটা হয়তো আমাদের ডাক্তার হবে- আমরা হাসপাতালটা আবার চালু করব। কিন্তু ছেলেটা মোটেই আমাদের সাথে কথা বলল না। বোনদের নিয়ে বারান্দায় বসে লুডো খেলত। আমাদের ফুটবল টিমে একজন কম পড়েছিল বলে তাকে কত ডাকলাম তা সে আসলই না। ওদের একটা গাড়ি ছিল সেটাতে করে ঘুরে বেড়াত আর আমাদের দিকে এমনভাবে তাকাত যেন আমরা রাস্তার ‘ছোঁড়া’! হীরা ঠিক করেছিল ওর মাথায় একদিন ঢিল মারবে- মেরেছিল কি না কে জানে! ওটা যা পাজি! পরে  আমাদের দেখলেই ওই ছেলেটা ঘরের ভিতরে চলে যেত। ওরা চলে গেলে আমরা সবাই খুব খুশি হয়েছিলাম।

আমি দেখেছি একবার কোনো বাসায় বন্ধু থাকলে, এর পরে যে আসে সে শত্রু হয়; এর পর আবার বন্ধু আসে। আমি নান্টু, হীরা, সলিল, মিশু ওদেরও এটা বলেছি, ওরা সবাই আমার কথা স্বীকার করেছে। মিশুরা যখন ঢাকায় থাকত তখন নাকি এটা ওর এমন অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল যে ওর বন্ধুরা চলে গেলে সে-বাসায় যারা আসত তার সাথে সে কথাই বলত না- কারণ এ তো জানা কথা ওর শত্রু হবে। এরপর শত্রুরা চলে গিয়ে আর কেউ এলে ও আবার বন্ধু তৈরি করত। এটা নাকি ওর ভীষণ অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল।

কাল রাতে যখন মাসুদদের বাসায় নতুন ভাড়াটে আসল তখনই আমি বুঝতে পেরেছিলাম এবারে একজন বন্ধু পাব। আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে ছিলাম- একটা ছেলেকে আবছা আবছা দেখেছি। আমি ঠিক জানি ও আমাদের বন্ধু হবে। তাই সকালবেলা আমরা ওই বাসার সামনে ঘুরোঘুরি করেছিলাম। তারপর আমরা বাসার সামনে বড় পেয়ারাগাছটাতে পা দুলিয়ে বসে থাকলাম। গাছটায় একটাও বড় পেয়ারা নেই, সব খেয়ে ফেলেছে। মাঝে মাঝে পাতার আড়ালে হঠাৎ করে বড় পেয়ারা পেয়ে গেলে আমরা সবাইকে এক কামড় করে খেতে দিই। হীরাটার কথা অবিশ্যি আলাদা- ও পেলে একলাই খায়।


অনেকক্ষণ ওই বাসাটার দিকে তাকিয়ে থাকার পর হঠাৎ আমাদের বয়সী একটা ছেলে তিন লাফে বেরিয়ে আসল- তারপর আবার ঢুকে গেল। খানিকক্ষণ পর ছেলেটা একটা শার্টের বোতাম লাগাতে লাগাতে আবার বেরিয়ে আসল। ওকে দেখে আমরা এত অবাক হলাম যে গাছ থেকে নেমে ওকে ডাকার কথা ভুলে গেলাম। আমাদের সমানই হবে ছেলেটা, কালো হাফপ্যান্ট আর লাল ফুলশার্ট পরনে। শার্টটার বাম হাতটা কনুইয়ের পর গিঁট মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে- ওর হাতটা ওখান থেকে কাটা।


ছেলেটা এদিক-সেদিক তাকাল তারপর আমাদের গাছে বসে থাকতে দেখে হেঁটে হেঁটে গাছটার নিচে এসে দাঁড়াল, এক হাতে তরতর করে কীভাবে জানি গাছটাতে উঠে বসল। তারপর মুখ কুঁচকে বলল, তোরা সব এ-পাড়ার ছেলে? হ্যাঁ?


বিশ্বাস হতে চায় না- পরিচয় নেই কথাবার্তা নেই অথচ প্রথমেই ঠিক এ কথাটা বলল! আমরা ভীষণ অবাক হলাম। রাগ হলাম আরও বেশি। হীরা বলল, খবরদার, তুই তুই করে কথা বলবি না।


তুইও তো তুই তুই করে বললি! বলে ছেলেটা ফ্যাকফ্যাক করে হেসে ফেলল। তারপর বলল, তোরা নিজেরা তুই তুই করে বলিস না?


হুঁ। আমি মাথা নাড়লাম। বলি তো কী হয়েছে?


তাহলে আমি বললে দোষ কী? আমিও তো এখানে থাকব।


ওর যুক্তিটা আমরা ফেলতে পারলাম না। বলতে কি উত্তরে বলার মতো কিছু পেলামও না। তাই বলে খুব খুশিমনে যে ওকে স্বীকার করে নিলাম তা নয়। নেহায়েত হাতটা কাটা তাই একটু কৌতূহল হচ্ছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তোমার হাত কেটেছে কেমন করে?


কাটেনি।


তাহলে?


ইুঁদুরে খেয়ে নিয়েছে। বলে সে কাটা হাতটা দুলিয়ে হিঃ হিঃ করে হেসে উঠল।


বলো-না শুনি।


বলব না। বলে এই আশ্চর্য ছেলেটা চুপ করে গেল। তারপর পা দোলাতে দোলাতে জিজ্ঞেস করল, তোরা দিনরাত গাছে বসে থাকিস?

আমি মুখ বাঁকা করে তাচ্ছিল্য করে ওকে উড়িয়ে দিলাম। বললাম, আমাদের ম্যালা কাজ। গাছে বসে থাকব কেন?

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “সত্যি, মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যার এর অন্য কিশোর উপন্যাস এর মতো এটিও আরেকটি মাস্টার পিস।সবার ভালো একটা সময় কাটবে পড়লে। ” - tahsin ahmed

  • Rating Star

    “ ” - MAHID

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!