কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

মুহাম্মদ মুহিউদ্দীন এর ঈমানদীপ্ত দাস্তান প্রথম খণ্ড

এক নজরে

মোট পাতা: 322

বিষয়: উপন্যাস

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

১১৭৫ সালের এপ্রিল মাস। সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবি তাঁর চাচাত ভাই খলীফা আস-সালেহ-এর গভর্নর সাইফুদ্দীনকে লিখলেন-
‘তোমরা খাঁচাবন্দি রং-বেরঙের পাখি নিয়েই ফুর্তি করো। মদ আর নারীর প্রতি যাদের এত আসক্তি, সৈনিকগিরি তাদের জন্য খুবই বেমানান।’
খলীফা আস-সালেহ ও তাঁর গভর্নর সাইফুদ্দীন ইসলামি খেলাফতের চিরশত্রু ক্রুসেডারদের চক্রান্তে ফেঁসে গেলেন। খেলাফতের রাজভান্ডার - দিনার-দেরহাম মণি-মুক্তা, হিরা-জহরত দিয়ে এই দুই শাসক আইউবির বিরুদ্ধে ক্রুসেডারদের প্ররোচিত ও সহযোগিতা করতে লাগলেন। তারা সুলতান আইউবিকে হত্যা করার চক্রান্ত আঁটলেন।
একদিন ক্রুসেডারদের হাতে ঠিক কাঙ্ক্ষিত সুযোগটা এসে গেল। তারা মুসলিম শাসকদেরই মাঝে তালাশ করছিল দোসর। খলীফা আস-সালেহ স্বেচ্ছায় তাদের সেই ভয়ানক চক্রান্তে পা দিলেন। খলীফা ও ক্রুসেডারদের সমন্বিত চক্রান্তে হত্যার উদ্দেশ্যে আইউবির উপর দুবার আক্রমণ হলো। কিন্তু সৌভাগ্যবশত উভয়বারই তিনি বেঁচে গেলেন। তিনি ঘাতকদের সব চক্রান্তজাল ছিন্নভিন্ন করে দিলেন। আঘাতে-প্রত্যাঘাতে শত্রুদের পরাস্ত করলেন। ফাঁস হয়ে গেল গভর্নর সাইফুদ্দীনের ষড়যন্ত্রের খবর।
গ্রেফতারির ভয়ে ক্রুসেডারদের দোসর গাদ্দার সাইফুদ্দীন ঘর-বাড়ি, বিত্ত-বৈভব পরিত্যাগ করে পালিয়ে গেলেন। তার বাসভবন থেকে উদ্ধার হলো বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও বিলাস-উপকরণ। পাওয়া গেল দেশি-বিদেশি অনিন্দ্যসুন্দরী যুবতী, তরুণী, রক্ষিতা। এদের কেউ নর্তকী, কেউ গায়িকা। কেউ  বিউটিশিয়ান, কেউ ম্যাসেঞ্জার। সবই ছিল সাইফুদ্দীনের মনোরঞ্জনের নোংরা সামগ্রী এবং ইসলামি খেলাফত ধ্বংসের জঘন্য উপাদান।
সাইফুদ্দীনের বাড়িতে আরো পাওয়া গেল নানা রঙের, নানা প্রজাতির অসংখ্য পাখি। দেওয়ালে-দেওয়ালে ঝুলানো ছিল বিভিন্ন ভঙ্গিমার নগ্না ও অর্ধনগ্না নারীর উত্তেজনাকর ছবি আর সুরাভর্তি অসংখ্য পিপা।
সালাহুদ্দীন আইউবি পাখিগুলোকে মুক্ত করে দিলেন আর সেবিকা, নর্তকী, বিউটিশিয়ান ও শিল্পী-তরুণীদের আপনজনদের কাছে পৌঁছিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলেন।
পরে সাইফুদ্দীনকে লিখলেন-
‘তোমরা দুজনে কাফের-বেঈমানদের দ্বারা আমাকে খুন করাবার অপচেষ্টায় মেতেছ। কিন্তু একবারও ভেবে দেখনি, তোমাদের এই চক্রান্ত খেলাফতের অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে। তোমরা আমাকে হিংসা করছ। তাই আমাকে তোমরা ধ্বংস করে দিতে চাও। দু-দুবার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে লোক পাঠিয়েছ; কিন্তু সফল হওনি। আবার চেষ্টা করে দেখো; হয়ত সফল হবে। তোমরা যদি আমাকে এই নিশ্চয়তা দিতে পার যে, আমার মৃত্যুতে ইসলামের উন্নতি হবে, মুসলমানদের কল্যাণ হবে, তা হলে কাবার প্রভুর কসম খেয়ে বলছি, দীনের জন্য নিজের জীবনটাকে কুরবান করে দিতে আমি প্রস্তুত আছি। আমি তোমাদের শুধু একটি কথা-ই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। তা হলো, কাফের-বেঈমানরা কখনো মুসলমানদের বন্ধু হতে পারে না।
‘ইতিহাস তোমাদের চোখের সামনে আছে। নিজেদের সোনালি অতীতের পানে একবার চোখ ফিরে তাকাও। আশ্চর্য, রাজা ফ্রাংক-রেমন্ডের মতো ঘোর ইসলামবিদ্বেষী অমুসলিম শাসকরা তোমাদের সাথে একটু বন্ধুত্বের অভিনয় করল আর অমনি তোমরা মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে তাদের সাহস জোগালে! তারা যদি সফল হতো, তা হলে তাদের পরবর্তী প্রথম শিকার তোমরা-ই হতে। তারপর হয়ত পৃথিবী থেকে ইসলামি খেলাফতের নামটুকু মুছে ফেলার কাজটাও সমাধা হয়ে যেত।
‘তোমরা তো যোদ্ধা জাতির সন্তান। সেনাপতিত্ব ও যুদ্ধপরিচালনা তোমাদের ঐতিহ্যের অংশ। অবশ্য প্রত্যেক মুসলমানই আল্লাহর সৈনিক আর আল্লাহর সৈনিক হওয়ার পূর্বশর্ত ঈমান ও কার্যকর ভূমিকা। তোমরা খাঁচাবন্দি রং-বেরঙের পাখি নিয়েই ফুর্তি করো। মদ আর নারীর প্রতি যাদের এত আসক্তি, সৈনিকগিরি তাদের জন্য খুবই বেমানান। আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, তোমরা আমাকে সহযোগিতা করো; আমার সঙ্গে জিহাদে শরীক হও। যদি না পার, অন্তত আমার বিরুদ্ধাচরণ থেকে বিরত থাকো। তোমাদের অতীত অপরাধের কোনো প্রতিশোধ আমি নেব না। আল্লাহ তোমাদের ক্ষমা করুন। আমীন।
ইতি
সালাহুদ্দীন আইউবি।’
গভর্নর সাইফুদ্দীন গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে নতুন চক্রান্তে মেতে উঠলেন। সুলতান সালাহুদ্দীন আইউবির পত্র তার মাঝে প্রতিশোধের আগুন জ্বালিয়ে দিল। যোগ দিল ইহুদি হাসান ইবনে সাব্বাহর ঘাতক স্কোয়াডের সঙ্গে। শুরু হলো নতুন চক্রান্ত।
হাসান ইবনে সাব্বাহর স্কোয়াড দীর্ঘ দিন যাবত ফাতেমি খেলাফতের আস্তিনের তলে কেউটের মতো বিরাজ করছিল।

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Nazmul Ramim

  • Rating Star

    “ ” - Kamrul Islam

  • Rating Star

    “ ” - makinul nasim

  • Rating Star

    “ ” - mohammad anis

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!