কার্ট

সব বই লেখক বিষয়

বিষয় লিস্ট

শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর মানবজমিন

এক নজরে

মোট পাতা: 570

বিষয়: উপন্যাস

** বইটি ডাউনলোড করে পড়তে আপনার সেইবই অ্যাপটি ব্যবহার করুন।

কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনস্তাত্ত্বিক উপন্যাস মানবজমিন। তৃষা, মণিদীপা এবং বিলু- এই তিন নারী চরিত্রের বিদ্রোহী সত্ত্বার উপাখ্যান এটি। যারা সমাজের দেখিয়ে দেওয়া গণ্ডিকে অতিক্রম করে, মানবজীবনের কিছু চেনা সত্যিকে পাশ কাটিয়ে আলাদা কিন্তু স্বীয় সুখ জমিনের সন্ধানের প্রয়াস করেছে। তৃষা শুধু একজন বিদ্রোহিনী শুধু নয়; একজন সম্রাজ্ঞীও। যার নির্মম ব্যক্তিত্বর কাছে হারতে হয়েছে সবাইকে। শুধু বার বার হেরে যেতে হয় তার নিজের সন্তান সজলের কাছে। সমাজের প্রথা মেনে তৃষা জীবনের সুখ শিকারের শুরুটা হয়েছিল স্বামী শ্রীনাথকে দিয়েই। কিন্তু সাদামাটা শ্রীনাথ তার উচ্চাকাঙ্ক্ষী তৃষাকে কখনো কাঙ্ক্ষিত সুখ আর অবারিত আধিপত্যের ছোয়া দিতে পারেনি। আর এই মনস্তাত্ত্বিক দৈন্যকে আশ্রয় করে শ্রীনাথের বড় ভাই সুপুরুষ মল্লিনাথের সাথে তৃষার নিষিদ্ধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আশপাশের মানুষ একটা সময় এটাও বিশ্বাস করতে শুরু করে সজল শ্রীনাথ নয় মল্লিনাথের সন্তান। শুধু তৃষা নয় মল্লিনাথও উজাড় করে দেয় নিজেকে। মৃত্যুর পর তার বিশাল সম্পত্তি তৃষার নামে করে দিতে দ্বিতীয়বার ভাবে না। আর সেই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে শুরু হয় শ্রীনাথের ছোট ভাই সোমনাথের সাথে তৃষার ঘাত-প্রতিঘাত। কখনো গুন্ডা লেলিয়ে তৃষা সোমনাথকে মার খাওয়ায় আবার কখনো তৃষার ঘরের বারান্দায় ঘটে বিষ্ফোরণ। সবকিছুর মাঝেও তৃষাকে একাকীত্ব গ্রাস করে। নিজের ছেলেও হয়ে ওঠে। তখন কাউকে না পেয়ে শ্রীনাথের সেজো ভাই দীপনাথের মাঝে তৃষা একজন বন্ধুকে খুঁজে ফেরে। এদিকে দীপনাথের বস বোসের স্ত্রী মনিদীপা শুরু থেকেই বেপোরয়া, নিজের স্বাধীন সত্ত্বাকে উন্মীলিত করার জন্য উন্মুখ। কিন্তু দীপনাথ বার বার তার রাশ টেনে ধরে। দীপনাথের ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা মনিদীপা আর একবার নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আর মনিদীপার মোহ দীপনাথকে একটু একটু করে গ্রাস করতে শুরু করে। বোসের সাথে বিয়ে নামের যে বোঝা তাকে বয়ে নিয়ে বেড়াতে হয় তার হাত থেকে দীপনাথের হাত ধরে সেই বোঝা থেকে মুক্ত হতে চায়। একটা সময় বোস নিজেই ওদের মাঝখান থেকে সরিয়ে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অন্যদিকে দীপনাথের বোন বিলু , এক অর্থব স্বামীর স্ত্রী। স্বামী প্রীতমের প্রতি কর্তব্য পালনে কখনো এক বিন্দুও অবহেলা করেনি, তবুও সে অসম্পূর্ণা। প্রীতম ভালোবাসার গভীরতা বিলু কখনো অনুভর করেনি, করার চেষ্টা করেনি। সন্তান লাবুর প্রতিও বিলুর এক যান্ত্রিক ভালোবাসা প্রীতমকে বার বার বিচলিত করে তোলে। বিলুর সত্ত্বাজুড়ে আরেকটি পুরুষ প্রীতমের জায়গা দখল করে বসে ছিল, কলেজ-জীবনের বন্ধু অরূণ। প্রীতম অসুস্থ হওয়ার পর বিলু যখন জীবনের একঘেয়ে স্বামীর সেবা-শুশ্রূষা সাথে সাথে জীবনের রূঢ় বাস্তবতা দিশেহারা হয়ে ওঠে তখন অরূণ এসে সবটুকু সপে দিয়ে বিলুকে আবার কাছে টেনে নেয়। এমন অনেক সম্পর্কের জটিলতা এবং গভীরতা অত্যন্ত সুনিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। উপন্যাসটিতে পাওয়া যায় জীবনের রূঢ় বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

সংশ্লিষ্ট বই

পাঠকের মতামত
  • Rating Star

    “ ” - Tanvir Hasan Riyad

  • Rating Star

    “ ” - Sharad Tonmay

  • Rating Star

    “ ” - Rakibul Dolon

  • Rating Star

    “ ” - Bookworm

রিভিউ লিখুন
রিভিউ অথবা রেটিং করার জন্য লগইন করুন!